Posted in ক্লাস নোট

মুনীর চৌধুরীর “কবর” নাটক নিয়ে হালকা আলোচনা

ভার্সিটিতে বাংলা কোর্স-এর অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে নিচের আলোচনাটি লিখেছিলাম। সরাসরি তুলে দিলাম।

‘কবর’ নাটক রচনার পেছনের গল্প জানতে হলে টাইম মেশিনে চড়ে আমাদের যেতে হবে প্রায় সত্তর বছর পেছনে, ১৯৫৩ সালের জানুয়ারী মাসে। যখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাজবন্দি হিসেবে বন্দী ছিলেন নাট্যকার মুনীর চৌধুরী। ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত থাকার ‘অপরাধে’ তাঁকে জেলে পুরে রেখেছিল তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। জেলে তাঁর জীবন কাটছিল কর্মহীন আলস্যতায়। 

Continue reading “মুনীর চৌধুরীর “কবর” নাটক নিয়ে হালকা আলোচনা”
Posted in হাবিজাবি

ইমনের বিয়ে

আজ একটা মজার ঘটনা ঘটেছে। ইমন এসেছিল অফিসে তার বিয়ের দাওয়াত দিতে। বেচারা লজ্জায় বলতেই পারেনি।

ইমন ছিল আমাদের অফিসের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। কিছুদিন হয়েছে অন্য আরেকটা অফিসে জয়েন করেছে। আজ বিকালে অফিসে হঠাৎ ওর আগমনে সবাই একটু চমকে গিয়েছিলাম। কাজের মহা চাপের মধ্যেও মস্তিষ্কের সবচেয়ে সক্ষম অংশটাকে দায়িত্ব দিয়ে দিলাম ওর আগমনের হেতু বের করার জন্য। কি হতে পারে! Continue reading “ইমনের বিয়ে”

Posted in হাবিজাবি

চিটাগং নিউ মার্কেটের সাপ্তাহিক অর্ধ দিবস বাতিল!

দীর্ঘ চার বছর পর চিটাগং আসলাম। অফিসের বসের বিয়ে। পনের জনের বিশাল এক দল নিয়ে আমরা যখন চিটাগং স্টেশনে পৌছালাম, ঘড়ির কাঁটা তখন প্রায় তিনটা ছুঁইছুঁই করছে। দলের কারো কারো মধ্যে এক ধরনের কৃত্রিম ক্ষোভ – মহানগর প্রভাতীর মতো বাজে ট্রেনে না এসে অন্য ট্রেনে আসলে এতক্ষণে বাসায় গিয়ে ভাত খেয়ে ঘুম দেওয়া যেত। আমি অতোসব ক্ষোভ-টোভের ধার ধারছি না। আমাকে কোন কিছুই স্পর্শ করতে পারছে না, এমনকি স্টেশনের ভ্যাঁপসা গরমটাও না। আমি এক ধরনের ঘোরের মধ্যে চলে গেছি, আমি সত্যি সত্যিই ঢাকা ছেড়ে চলে এসেছি নিজের প্রাণের শহরে। বিশ্বাস হচ্ছে না।

দল থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে স্টেশন থেকে বের হয়েই হাঁটা দিলাম নিউ মার্কেটের দিকে। আমি দরিদ্র মানুষ, উবার-সিএনজি আমার জন্য নয়, আমার জন্য বরাদ্ধ আছে মহাবিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগামী পরিবহন ‘সাত নাম্বার’ বাস। নিউ মার্কেটের মোড়ে এসে দাঁড়াতেই চোখ পড়লো – নিউ মার্কেটের শরীরে সেঁটে দেওয়া বিশাল ব্যানারের দিকে। সেখানে বড় বড় করে লেখা – “এখন থেকে বৃহস্পতিবারের সাপ্তাহিক অর্ধ দিবস বাতিল করা হয়েছে, তার পরিবর্তে শনিবারে দুপুর দুইটায় মার্কেট খোলা হবে”। Continue reading “চিটাগং নিউ মার্কেটের সাপ্তাহিক অর্ধ দিবস বাতিল!”

Posted in হাবিজাবি

বিরহের API সংগীত

এই API ফেলে
একদিন চলে যাব দুরে, বহুদূরে
সেদিন Postman তুমি রেখো
গোপন করে।

মনে রেখো তুমি
কত রাত কত দিন
লিখে গেছি Code আমি, ক্লান্তিবিহীন
অধরে তোমার ফোঁটাতে হাসি
দিয়ে গেছি Response আমি
xml থেকে কত json এ। Continue reading “বিরহের API সংগীত”

Posted in হাবিজাবি

ইন্টার্নশীপ এবং আমি

প্রশ্নকর্তা আমার দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল, “Describe yourself in English”
আমি টেবিলের উপর রাখা পানির বোতলের দিকে তাকিয়ে বিড় বিড় করে বললাম, “খাইছে আমারে!”

আমি এসেছি খিলক্ষেতের এক সফটওয়্যার ফার্মে ইন্টার্নশীপের জন্য ইন্টারভিউ দিতে, ইন্টারভিউ দিতে বসে প্রথম প্রশ্ন শুনেই মনে হল ইন্টার্নশীপটা বোধহয় আর করা হলো না। আসলে হয়েছে কী, হুমায়ুন আহমেদের হিমু সিরিজের বইগুলো পড়তে পড়তে মাথার ভেতরে কিছু সস্তা ফিলোসফি ঢুকে গেছে। চাইলেও এই ফিলোসফিগুলো মাথা থেকে বের করা যায় না। এইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ঝামেলার হচ্ছে এই ফিলোসফিটা, “আমরা কে? কোথা থেকে এসেছি? আমরা কেনইবা এখানে এসেছি?”
এখন যখনই কেউ জিজ্ঞেস করে – “তুমি কে”, তখনই মানসিকভাবে কিছুটা দ্বিধা সৃষ্টি হয়। Continue reading “ইন্টার্নশীপ এবং আমি”

Posted in ক্লাস নোট

Machine Learning | Coursera – 1

Coursera-তে আমি মেশিন লার্নিং শেখা শুরু করেছি। প্রতিদিন যা শিখছি তার অভিজ্ঞতাগুলো ব্লগে লিখে রাখার পরিকল্পনা করেছি। এটা কোনো মেশিন লার্নিং টিওটোরিয়াল নয়, এটাকে বড়জোর ক্লাস নোট বলা যায়। 

“A computer program is said to learn from experience E with respect to some class of tasks T and performance measure P, if its performance at tasks in T, as measured by P, improves with experience E.” – Tom Mitchell

সংজ্ঞাটা কেমন যেন বর্ণমালাময়। আমি যেটা বুঝেছি সেটা সহজ ভাষায় লিখি।

কম্পিউটার (কিংবা মেশিন) এর বুদ্ধিমাত্রা যেকোন সাধারণ বায়োলজিকাল প্রাণী’র তুলনায় অনেক কম, মানুষের ধারে কাছে’তো কখনোই না। এক কথায় বলতে গেলে কম্পিউটার-এর কোন বুদ্ধিই নেই।
তবে হ্যাঁ, কম্পিউটার (কিংবা মেশিন) এর যে ধৈর্য্য আছে সেটা আমাদের রক্ত মাংসের প্রাণীদের নেই। কম্পিঊটার একই ধরনের কাজ একটানা দশ হাজার বার করতে পারবে, যেখানে কিনা আমাদের রক্ত মাংসের প্রাণীদের ক্ষেত্রে একটানা একটা কাজ পঞ্চাশ বার করতে গেলেই মাথা গরম হয়ে যাবে। আমাদের ধৈর্য্যের একটা সীমা আছে, যেটা কম্পিউটারের নেই। কম্পিউটারের ধৈর্য্যের মাত্রা অসীম। ধৈর্য্যের মাত্রা অসীম হওয়াতে সে একটা কাজ অনেকবার করতে পারে এবং অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। পূর্বের অর্জিত অভিজ্ঞতা থেকে সে পরবর্তীতে এই কাজটা নিখুঁতভাবে করতে পারে। প্রথমবার কাজটা করতে গিয়ে যে ভুলটা সে করেছে, দ্বিতীয়বার সে সেই ভুলটা করছে না। এভাবে সে ভুল থেকে শিখে নিজেকে শাণিত করতে পারছে।

এই মুহূর্তে মেশিন লার্নিং বলতে আমি এটাই বুঝতে পারছি।

মোটা দাগে মেশিন লার্নিং-এর দুইটা ভাগ আছে।
সুপারভাইজড লার্নিং
আনসুপারভাইজড লার্নিং

সুপারভাইজড লার্নিং – পূর্বের কতগুলো তথ্য ঘাটাঘাটি করে সে একটা ফলাফল দেখায়। যেমনঃ রাজশাহীর একটা আম বাগানের গত ৫০ বছরের রেকর্ড ঘেটে সে আমাদের জানাতে পারবে, এই বছর আমের ফলন কেমন হবে। কিংবা গত ৫০ বছরের আবহাওয়ার রেকর্ড ঘেটে সে জানাবে, এই বছর আদৌ আম ধরবে কি-না।
সুপারভাইজড লার্নিং-এর দুইটা ভাগ আছে। regression এবং classification, আমাদের উপরের প্রথম উদাহরণটা ছিলো রেগরেশনের জন্য, এবং দ্বিতীয়টা ক্লাসিফিকেশনের জন্য।

আনসুপারভাইজড লার্নিং – সে পূর্বের তথ্য থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা দিয়ে, সবকিছুকে গ্রুপ আকারে ভাগ করে ফেলে। যেমনঃ সে অনেকগুলো আমের মধ্যে থেকে বেছে বেছে সবগুলা আমকে বিভিন্ন গ্রুপ আকারে ভাগ করে ফেলবে। কিছু আমকে ফজলি গ্রুপে রাখবে, কিছু আমকে রাখবে ল্যাংড়া গ্রুপে, এভাবে সে বিভিন্ন গ্রুপে গ্রুপে ভাগ করে ফেলবে। যাতে আমরা সহজেই আমাদের কাঙ্ক্ষিত ধরনের আম খুঁজে পাই।

Coursera-তে আনসুপারভাইজডের একটা চমৎকার উদাহরণ দিয়েছে। সেখানে ককটেল পার্টির একটা সাউন্ড ট্র্যাক শোনানো হয়েছে, যে সাউন্ড ট্র্যাকের মধ্যে দুইজন মানুষের কন্ঠস্বর আছে এবং ডিজে সং আছে। আনসুপারভাইজড লার্নিং-এর মাধ্যমে ঐ একটা সাউন্ড ট্র্যাকের মধ্য থেকে এই তিনটা ভিন্ন ভিন্ন সাউন্ড ভাগ করে ফেলা গেছে। ব্যাপারটা বেশ মজার।

Posted in আদু-মন্টি সিরিজ

Delete কিভাবে কাজ করে?

adu-monti_9
শীতের রাত, হলুদ বাতি জ্বলছে ঢাকার রাস্তায়।
বগলে সিপিউ নিয়ে বিজয় স্মরণীর ফুটপথ ধরে আমি আর আদু হাঁটছি। পাশ দিয়ে সাঁই সাঁই করে গাড়ি ছুটে যাচ্ছে, সবার মাঝে ঘরে ফেরার তাড়া। আমাদের কোনো তাড়া নেই, আমরা হাঁটছি কচ্ছপ গতিতে। কচ্ছপ গতিতে হাঁটার কারণে কিছু মানুষ আমাদের ধরে নিয়েছে তাদের খদ্দের হিসেবে, তারা আমাদের কাছে স্বল্প মূল্যে মাংস ভাড়া দিতে চায়। আমরা কাউকেই তোয়াক্কা করছি না, সত্যি বলতে আমরা তোয়াক্কা করার মতো অবস্থাতেই নেই, আরেকটু পরিষ্কার করে বললে আমার অবস্থা খুবই খারাপ, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। গত তিন মাস ধরে কম্পিউটার নষ্ট, যুদ্ধের ময়দানে ঢাল তলোয়ার ছাড়া একজন সৈনিক যেমন অচল, আমিও তেমন অচল কম্পিউটার ছাড়া। বহুদিন পর কিছু টাকা হাতে আসায় সিপিউ নিয়ে গিয়েছিলাম আইডিবি’র এক এক্সপার্টের কাছে।

এক্সপার্ট সিপিউ চেক করে ঘোষণা দিলো – “মাদারবোর্ড গেছে, ঠিক করতে লাগবে পনের হাজার বাংলাদেশি মুদ্রা।”
আমি রেগে গিয়ে বললাম – “একটা মাদারবোর্ডের জন্য এতো টাকা! বলি এটা কি মগেরমুলুক নাকি?”
এক্সপার্ট টিটকিরি দিয়ে বললো – “মগেরমুলুক হতে বাকি কই, বর্ডার খুলে সব মগরে জায়গা দিতাছেন। এরা যে হারে বাচ্চা পয়দা করতেছে, আর দশ-পনের বছর পর ওদের সংখ্যাই হবে আমাদের চাইতে বেশি। তখন এই অঞ্চলের নাম বাঙালমুলুক থেকে বদলে মগেরমুলুক হয়ে যাবে।”
আমি ঠান্ডা স্বরে বললাম – “আপনি কথা অন্যদিকে ঘুরাবেন না। আপনি যে টাকা দাবী করছেন এই টাকায় আমার ছয় মাসের মিল খরচ হয়ে যাবে।”
এক্সপার্ট মুখ বাঁকা করে বললো – “তাইলে আপনের আর সিপিউ ঠিক করার দরকার নাই। ছয় মাস ধরে শুইয়া শুইয়া মিল খান, আর আরো ভোঁটকা হন।” Continue reading “Delete কিভাবে কাজ করে?”

Posted in হাবিজাবি

লাল মিয়া

red guy
Facebook Profile Link

চট্টগ্রামে যখন থাকতাম তখন এই ভদ্রলোক’কে প্রতিদিন দেখতাম। উনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে এসে পড়তেন। (গোপনে একটা কথা বলি, তখন আমি অনেক ভালো ছিলাম। তখন  নামাজ কাজা হতো খুবই কম, আর এখন … থাক ঐদিকে আর না যাই। )  প্রায় প্রতিদিনই উনি মসজিদে আসতেন একটা লাল পাঞ্জাবী পরে,  যদিও মাঝেমধ্যে একটা সাদা টি-শার্টও পরতেন, তবে সেই ‘মাঝেমধ্যে’টা খুবই কম। আমার বয়সী বাকি নামাজীদের গোপন আড্ডায় উনাকে সম্বোধন করা হতো  ‘লাল মিয়া’ নামে। আজ হঠাৎ উনাকে ফেসবুকে দেখে আগের সেই সময়গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠলো।

[ …অনেক বড় একটা ব্লগ পোস্ট লিখবার পরিকল্পনা হাতে নিয়ে কি-বোর্ডে আঙ্গুল চালানো শুরু করেছিলাম। কিন্তু এখন আর পরিকল্পনা সফল করতে ইচ্ছে করছে না। মানব মস্তিষ্ক কত অদ্ভুত!]

Posted in হাবিজাবি

একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আন্দোলন এবং উপাচার্য

গত বছর ২৮ শে নভেম্বর একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অদ্ভুত ধরনের এক আন্দোলন হয়েছিল। সিএসই ডিপার্টমেন্টের হেড অপ্রত্যাশিতভাবে রিজাইন দিয়ে চলে যাচ্ছিলেন অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছাত্ররা তাদের এই শিক্ষককে ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন করলো। কাকতালীয়ভাবে আমিও সেই আন্দোলনের একটা অংশ ছিলাম। একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা শিক্ষকের রিজাইন ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আন্দোলন করতে পারে, তা সেদিনের আগে আমার জানা ছিল না।
আমার ইচ্ছা ছিল, এই আন্দোলনকে ঘিরে একটা চমৎকার থৃলার বই লিখবো, যথেষ্ট তথ্য এবং সময়ের অভাবে বইটা এখনো লিখতে পারিনি, কিছু তথ্য যদিও একাধিক মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছি, তবুও সেটা যথেষ্ট নয়।
এখানে আমার দৃষ্টিকোণ থেকে আন্দোলনটা ছোট করে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।
এটি লিখতে গিয়ে দুই-এক জায়গায় আমি কল্পনার আশ্রয় নিয়েছি, সুতরাং এই লেখার পুরোটাই সত্য ধরে নেওয়ার কোন প্রকার যৌক্তিকতা নেই। প্রধান চরিত্রের নামটা আমি ইচ্ছা করেই বদলে দিয়েছি।
আন্দোলনটা যে বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়েছিল সেটি সম্পর্কে একটু ধারনা দিই। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস হলো ভাড়া করা একটি পনের তলা বিল্ডিং, কাছেই তৈরি হচ্ছে এটির স্থায়ী ক্যাম্পাস। ঢাকা শহরের ভেতরের যে দশটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস করার অনুমোদন পেয়েছে, এটি সে দশটির একটি।


(১)
সন্ধ্যা, ২৬ নভেম্বর ২০১৬
লেকচারার আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখলেন, ‘সিএসই ডিপার্টমেন্টের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়া হলো’ Continue reading “একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আন্দোলন এবং উপাচার্য”